ঢাকা, ২৫ জুলাই:
উত্তরার দিয়াবাড়িতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় চীনের তৈরি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে তেজগাঁও বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই বিমানটি মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি জনবহুল এলাকায় আছড়ে পড়ে।
মাত্র ১২ মিনিটের ফ্লাইট, কিন্তু কেন এই ভয়াবহ পরিণতি?
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আকাশে ওড়ার কথা ছিল যুদ্ধবিমানটির। কিন্তু আকাশে ওড়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানের সর্বোচ্চ গতি শব্দের চেয়েও দ্বিগুণ হলেও শেষ সময়ে এটি প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল বলে জানা গেছে।
পাইলট ছিলেন অভিজ্ঞ। এর আগেও বহুবার ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা ছিল তার। তাই তার দক্ষতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তোলেননি। তবে কেনো শেষ মুহূর্তে পাইলট ‘এক্সিট’ সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটির প্রধান ক্যাপ্টেন (অব.) সালাউদ্দিন এম রহমতুল্লাহ। তার মতে, যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াও পাইলটের মানসিক বা শারীরিক অবস্থাও এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে।
প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকাই কেনো? জনবহুল এলাকা এড়ানো কি সম্ভব ছিলো না?
বিমান বিধ্বস্তের পর থেকেই সর্বসাধারণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—এত জনবহুল এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান কেনো উড়তে হবে? দুর্ঘটনা এড়াতে জনবহুল এলাকা এড়ানোর কোনো পরিকল্পনা ছিল না কি?
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের গাফিলতির কারণেই ঢাকার বাইরের এলাকায় উপযুক্ত রানওয়ে তৈরি হয়নি। ফলে প্রশিক্ষণের জন্য বিমানগুলোকে বাধ্য হয়েই রাজধানী ও চট্টগ্রামের আকাশে উড়তে হচ্ছে।
এছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা—২০১৩ সালেই চীন FT-7 BGI মডেলের এই যুদ্ধবিমানটির উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এখনো সেই পুরনো বিমান ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। স্বাধীনতার পর বিমান বাহিনীকে আধুনিকীকরণের কার্যক্রম বারবার উপেক্ষিত হওয়াই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শেষ কথা
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের সামরিক প্রস্তুতি, অবকাঠামো ও পরিকল্পনার বড় এক ঘাটতির চিত্র তুলে ধরছে। দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় এবং ভবিষ্যতে জনবহুল এলাকায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট বন্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন